সিবিএন ডেস্ক;
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার পিডিবি ঘাটসংলগ্ন নদী এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ।
পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ২৬ বছর। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। এমনকি আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এলাকাবাসী খালে ভাসমান একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে সদরঘাট নৌ পুলিশ ও কর্ণফুলী থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে দুই ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঘটনাস্থল নৌ পুলিশের অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ায় নৌ পুলিশই সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
আইন অনুযায়ী, দেশের নদী, হ্রদ ও নৌ-চলাচল উপযোগী জলপথ এবং এসব জলপথের সর্বোচ্চ পানির সীমা থেকে স্থলভাগের ৫০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নৌ পুলিশের অধিক্ষেত্র। সে হিসেবে কর্ণফুলী নদীর পিডিবি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের আইনগত দায়িত্ব নৌ পুলিশের ওপরই বর্তায়।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল আমাদের থানা এলাকার মধ্যে নয়। তবে মরদেহ উদ্ধারে আমাদের টিম সহযোগিতা করেছে। নৌ পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তারাই গ্রহণ করবে।”
সদরঘাট নৌ থানার ওসি আবদুর রউফ বলেন, “মরদেহটি বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।”
তবে ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানার মধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হলেও আইনি অধিক্ষেত্র নিশ্চিত হওয়ার পর নৌ পুলিশই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
